“বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী প্রীতম—পেন্সিলে জীবন্ত মুখচ্ছবি আঁকার বিস্ময়”

ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজে পড়ুয়া ১৬ বছর বয়সী এক তরুণ প্রতিভার নাম প্রীতম চন্দ্র দাস।
ফেনীর রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে তিনি নিজের শিল্পী জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে চলেছেন। প্রীতমের আঁকার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই শুরু হলেও নবম শ্রেণিতে এসে তার মধ্যে আর্ট নিয়ে গভীর নেশা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের মুখের অবয়ব তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাগজে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। তার মতে, এই দক্ষতার পেছনে রয়েছে কঠোর অনুশীলন এবং নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক। তিনি গ্রিড মেথড এবং লুমিস মেথড ব্যবহার করে প্রতিকৃতি আঁকেন। ইউটিউব টিউটোরিয়াল থেকেই তিনি এই পদ্ধতিগুলো শিখেছেন এবং বর্তমানে গ্রিড মেথড বেশি ব্যবহার করেন নিখুঁত ফলাফলের জন্য। একটি প্রতিকৃতি আঁকতে তার সময় লাগে সাধারণত প্রায় ২ ঘণ্টা।

তবে ছবির জটিলতা এবং আকার ভেদে এটি কখনো কখনো দুই দিনেরও বেশি সময় নিতে পারে। লাইভ স্কেচের তুলনায় ছবি দেখে আঁকাই বর্তমানে তার জন্য বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। তবে ভবিষ্যতে লাইভ স্কেচিংয়ে আরও দক্ষ হতে চান তিনি। তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেননি। পুরোপুরি নিজ প্রচেষ্টা এবং অনলাইন শেখার মাধ্যমেই তার এই যাত্রা শুরু। যদিও কোনো নির্দিষ্ট শিল্পীকে আইডল হিসেবে অনুসরণ করেন না, তব503; অনেক শিল্পীর কাজই তাকে অনুপ্রাণিত করে। চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শ্যাডিং বা ছায়া প্রয়োগ। তার মতে, শ্যাডিং যত নিখুঁত হয়, একটি ছবি তত বাস্তবধর্মী হয়ে ওঠে। এর আগে এমনও হয়েছে, কোনো ছবি ভালো না লাগায় তিনি সেটি বাতিল করে আবার নতুন করে শুরু করেছেন।

তবে প্রতিবারই নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছেন তিনি। তার আঁকা কাজগুলোর মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামের একটি প্রতিকৃতি তাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ছবি আঁকা তার কাছে এখনো একটি শখ। তবে সুযোগ পেলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ভর্তি হতে চান। তিনি আরও জানান, ছবি আঁকা তার কাছে নিজেকে আনন্দ দেওয়ার একটি মাধ্যম।
বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে আঁকার অভিজ্ঞতা তার কাছে সবচেয়ে অনন্য অনুভূতি। নতুনদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ— “শুরুতে সবাই ভুল করে, কিন্তু হাল ছাড়া যাবে না। ভুল থেকে শিখে বারবার অনুশীলন করলেই উন্নতি সম্ভব। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে শেখা আরও ভালো।”
দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে তিনি জানান, আগে প্রতিদিন ১–২ ঘণ্টা আঁকতেন, তবে পড়াশোনার চাপ বাড়ায় এখন নিয়মিত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। মানুষ, প্রকৃতি এবং বিভিন্ন বিষয়বস্তুর মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি মানুষই আঁকেন।

Comments
No comments
Add a comment: