“আম্মু তুমি ছাড়া আমরা অচল” —শিশুশিল্পী তাসিন-তাজিম

মা দিবস উপলক্ষে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় যমজ শিশুশিল্পী তাসিন-তাজিম।
তাদের কথায় উঠে এসেছে মায়ের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা, ত্যাগ, সংগ্রাম আর জীবনের প্রতিটি ধাপে মায়ের অবদানের গল্প। তাদের ভাষায়, “মা দিবস শুধু একটি দিন না, আমাদের কাছে প্রতিটা দিনই মা দিবস। কারণ মা ছাড়া জীবন যে অসম্ভব, সেটা প্রতিদিনই অনুভব করি।” তাসিন-তাজিম বলেন, তাদের নাম, পরিচয় ও অস্তিত্বের পেছনেও রয়েছে মায়ের অবদান। সাত মাসে জন্ম নেওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তারা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকতেন। কিন্তু গভীর রাতেও চোখ খুললেই মাকে পাশে পেতেন তারা। আজও সেই ভালোবাসা একটুও বদলায়নি বলে জানায় দুই ভাই।
সম্প্রতি ক্লাস এইটের বার্ষিক পরীক্ষার সময় তাদের মা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তারা বলেন, “আম্মুকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার শক্তি পাচ্ছিলাম না। কিন্তু প্রতিদিন সকালে আম্মু হাত ধরে চোখের ইশারায় বলতেন— যাও। তখন বুঝেছি একজন মায়ের চোখে কতটা শক্তি লুকিয়ে থাকে।” তারা আরও জানান, আজ তারা যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার পেছনে সৃষ্টিকর্তার পরেই সবচেয়ে বড় অবদান মা-বাবার। বিশেষ করে মায়ের সঠিক গাইডলাইন ও ভালোবাসাই তাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে। ব্যস্ত মিডিয়া জীবন নিয়েও মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তাসিন-তাজিম বলেন, “এখন শুটিং, ব্র্যান্ডিং আর মিডিয়ার কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। তারপরও যতটুকু সময় পাই, পুরোটা আম্মুর সাথেই কাটাই। এখন পর্যন্ত আমরা কখনো আম্মু-বাবাকে ছাড়া কোথাও যাইনি।”

মায়ের শেখানো জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন তারা। তাদের মা সবসময় বলেন, “জীবনে ভালোবাসা ও সম্মান পেতে হলে আগে মানুষকে ভালোবাসতে ও সম্মান দিতে শিখতে হবে।” নিজেদের ভুলের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন দুই ভাই। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আম্মু, না বুঝে অনেক সময় এমন কথা বলে ফেলি যেটা তোমাকে কষ্ট দেয়। আমাদের মাফ করে দিও। আমরা তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।” জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘গলুই’ সিনেমার জন্য নমিনেশন পাওয়ার মুহূর্তের স্মৃতিও ভাগাভাগি করেন তারা। জানান, খবরটি দেখেই তাদের মা আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন। মায়ের জন্য ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথাও জানায় তাসিন-তাজিম।
তারা চান মাকে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যেতে। নিজেদের উপার্জনের টাকায় মায়ের জন্য উপহার কিনতে পারার অনুভূতিকেও জীবনের বড় আনন্দ বলে মনে করেন তারা। বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন এই দুই শিশুশিল্পী। তাদের মতে, সন্তানদের অতিরিক্ত বকাঝকা না করে ভালোবাসা ও বাস্তবতার মাধ্যমে বুঝানো উচিত। পাশাপাশি মানুষের ভালো দিকগুলো গ্রহণ ও খারাপ দিকগুলো এড়িয়ে চলার শিক্ষাও দেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে তাসিন-তাজিমের একটাই কথা— “আম্মু তুমি ছাড়া আমরা অচল… তোমাকে আমরা অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি।”

Comments
No comments
Add a comment: