লোকজ সৌন্দর্যে রাজকীয় উপস্থিতি, প্রশংসায় ভাসছেন সুনিধি

বাংলার লোকঐতিহ্য, রাজকীয় আভিজাত্য এবং আধুনিক ফ্যাশনের অনন্য মেলবন্ধনে নির্মিত হয়েছে মডেল ও অভিনয়শিল্পী সুনিধি নায়েকের নতুন মিউজিক ভিডিওর বিশেষ লুক।
নান্দনিক পোশাক, ঐতিহ্যবাহী অলংকার এবং শিল্পসম্মত মেকআপের সমন্বয়ে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে রহস্যময় ‘লস্ট প্রিন্সেস’ বা হারিয়ে যাওয়া রাজকন্যার প্রতীকী রূপে। এই লুকের মূল আকর্ষণ ছিল সুনিধির কাস্টম-মেড লেহেঙ্গা, যার নকশা অনুপ্রাণিত হয়েছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অমর প্রেমকাহিনি ‘মহুয়া পালা’ থেকে। দ্বিজ কানাই রচিত এবং পরবর্তীতে মৈমনসিংহ গীতিকায় সংকলিত এই লোকগাথার বিভিন্ন প্রতীক সূক্ষ্ম কারুকাজ ও এমব্রয়ডারির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পোশাকজুড়ে।
পোশাকটির নকশায় বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে মোঘল শিল্পধারার ছোঁয়া। লম্বা হাতার ব্লাউজে চুমকি, পুঁতি, ধাতব অলংকার ও ঐতিহ্যবাহী কারচুপির কাজ পোশাকটিকে দিয়েছে রাজকীয় আবেদন। তবে পুরো ডিজাইনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, শিল্প ও ইতিহাস। লেহেঙ্গার বিভিন্ন অংশে হরিণ, ময়ূর, পাখি, রাজকন্যা, লতাপাতা এবং ফুলের মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে।
এসব অলংকরণ শুধু নান্দনিকতা নয়, বরং ‘মহুয়া পালা’র আবেগ, প্রকৃতিপ্রেম ও লোকজ জীবনধারার প্রতীক হিসেবেও স্থান পেয়েছে। রঙের ব্যবহারে ছিল বিশেষ পরিকল্পনা। গাঢ় মেরুন, গভীর সবুজ, কালচে বেগুনি এবং সোনালি রঙের সমন্বয় তৈরি করেছে এক রাজকীয় আবহ। তসর সিল্ক, মখমল ও মসলিনের মতো ঐতিহ্যবাহী কাপড় ব্যবহারের ফলে পোশাকে এসেছে গভীরতা ও অভিজাত সৌন্দর্য। জানা গেছে, এই বিশেষ কস্টিউম তৈরিতে পুরো টিমের প্রায় ৪০০ ঘণ্টা সময় লেগেছে।
প্রতিটি কারচুপির কাজ হাতে সম্পন্ন হওয়ায় এটি একটি এক্সক্লুসিভ কৌচার পোশাক হিসেবে বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ গয়নাও। প্রশস্ত টুইন পিকক হাসুলি, ভারী বালা, রতন চূড়, হাতফুল রিং এবং ঐতিহ্যবাহী মানতাসাসহ প্রতিটি অলংকারই সুনিধির ‘লস্ট প্রিন্সেস’ লুককে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, সুনিধি নায়েকের এই নতুন লুক শুধু একটি মিউজিক ভিডিওর পোশাকসজ্জা নয়; এটি বাংলা লোকঐতিহ্য, ইতিহাস, কারুশিল্প এবং সমসাময়িক ফ্যাশনের এক শিল্পসম্মত উপস্থাপনা, যেখানে ফ্যাশন হয়ে উঠেছে গল্প বলার এক অনন্য মাধ্যম।

Comments
No comments
Add a comment: