বাংলা নতুন কবিতা তুমি কাঁদলে

তুমি কাঁদলে
মো. রাজিবুর রহমান
তুমি কাঁদলে কাঁদে এই ধরা —
আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সূর্য, তারা,
ফুল-পাখিরাও কাঁদে,
সকলে তোমাতে মমতা বাঁধে।
সেই মায়া-মমতায় আমিও কাঁদি।
কাঁদতে কাঁদতে আমার দু'চোখের জল শুকিয়ে যায়।
তুমি কাঁদলে আমার হৃদয়ে কষ্টের স্রোত বইতে থাকে,
আবেগের শত ঝড় আমায় হাত বাড়িয়ে ডাকে।
তুমি কাঁদলে আমার এই পৃথিবীটা শূন্যতা লাগে,
রাগে-ক্ষোভে আমার ভিতটায় হিংস্রতা জাগে।
তুমি কাঁদলে আমার ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করে,
মনের যত কষ্ট আছে, আমাকে খামচে ধরে।
তুমি কাঁদলে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে,
শত বেদনায় নীরবে, নিভৃতে চোখের অশ্রু ঝরে।
তুমি কাঁদলে আমার হৃৎপিণ্ড খুব ধীরে কাজ করে,
হাত-পা-মস্তিষ্ক — আমার সুস্থ শরীরও দূর্বল হয়ে পড়ে।
তুমি কাঁদলে আমার শান্ত মন অস্থির হয়ে যায়,
দুখের সাগরে পড়ে কূল-কিনারা খোঁজে না পায়।
তুমি কাঁদলে আমার দু'চোখের দৃষ্টি নুয়ে পড়ে,
হৃদয় বাগিচায় শত শত ফুল এমনিতে যায় ঝরে।
তুমি কাঁদলে আমার আকাশে মেঘমালারা কাঁদে,
এ মন সুখ ভুলে সারি সারি কষ্টের বোঝা বাঁধে।
তুমি কাঁদলে আমার হৃদয়ে কালবৈশাখী ঝড় নামে,
তুমি না হাসলে সে ঝড় আমার কখনোই না থামে।
তুমি কাঁদলে আমার মনের আকাশে উদিত আলো,
তোমাকে ভেবে-ভেবে এই বুঝি চুপিসারে নিভে গেল।
তুমি কাঁদলে আমার সম্মুখটা তপ্ত সাহারা মরুভূমি,
যেখানে নেই কেউ — শুধু একা আমার দুঃখ আকাশচুম্বী।
তুমি কাঁদলে আমার কিছুই আর ভালো লাগে না,
হৃদয়ে বেঁচে থাকার এতটুকু আশা আর জাগে না।
তুমি কাঁদলে আমার সুন্দর ভুবন আঁধারে ঢাকা পড়ে,
এ হৃদয় ভেঙে চূড়ে খান খান করে কালবৈশাখী ঝড়ে।
তুমি কাঁদলে আমার কি অপরাধ, তা খোঁজতে থাকি,
তোমারি মায়াবী চাহনির শত শত ছবি হৃদয়ে আঁকি।
তুমি কাঁদলে আমার ভিতরের জমানো কবিতাগুলো,
পাখা মেলে দূর আকাশে উড়ে সারা পৃথিবী ঘুরে।
তুমি কাঁদলে আমার সুখগুলো কোথায় যে
বিলীন হয়ে যায় — আমি আর খোঁজে পাই না।
তুমি কাঁদলে আমাকে শুকনো পাতার মতো মনে হয়,
যেন একটু বাতাসেই দূরে উড়ে যাই।
তুমি কাঁদলে আমার জগৎ-সংসার এলোমেলো হয়ে যায়, আমিও ভীষণ এলোমেলো হয়ে যাই।
তুমি কাঁদবে কেন?
তুমি কাঁদবে না —
তুমি অপ্সরা, তুমি কোকিল কণ্ঠি।
তুমি তো জলে ফোটা পদ্মফুল,
তুমি হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা,
তুমি কৃষ্ণচূড়া, জুই-চামেলি, সুবাস ছড়ানো বকুল।
তুমি দক্ষিণা হিমেল হাওয়া,
ফুলের সুবাস বয়ে যাওয়া,
জৈষ্ঠ্যের আম্র মুকুল।
তুমি বসন্ত, হেমন্ত, ফাগুন,
ঝলমলে আলো পূর্ণিমার চাঁদ,
নদীর পাড়ের শুভ্র কাশফুল।
তুমি জ্যোৎস্না, তুমি বৃষ্টি, তুমি জোনাকি,
তুমি সন্ধ্যা, তুমি শুকতারা,
তুমি সোনালু ফুল।
তুমি প্রকৃতির মত সুন্দর,
তুমি তো ফেলনা নও,
তুমি দুঃখিনীর কানের দুল।
তুমি মহাকাব্য, তুমি গীতাঞ্জলি,
তুমি মমতাজ, তুমি কোহিনূর,
তুমি মোহন বাঁশির সুর।
তুমি সুখের সাগর, মণি-মুক্তা,
তুমি নায়াগ্রা জলপ্রপাত,
তুমি বেহেশতের হুর।
তুমি শব্দ, তুমি ছন্দ, তুমি কবিতা,
তুমি মহাকাব্য অতুল।
তুমি সুখ, তুমি শান্তি, তুমি অনন্তপ্রেম।
তুমি বই শূন্য জগৎ,
শূন্য মানবকুল।

Comments
No comments
Add a comment: