নেক কাজে ‘সেলফি’ ভয়ংকর ফেতনা
একটা সময় ছিল, আমাদের আকাবিরগণ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে অতিরিক্ত কঠোরতার নীতি অবলম্বন করেছিলেন।
ফতোয়া দিয়েছিলেন টিভি দেখা যাবে না, মাইক ব্যবহার নিষেধ, অকারণে মোবাইল চালানো ঠিক নয় ইত্যাদি। তখন আমাদের কেউ কেউ এসবের বিরোধিতা করেন। কেউ কেউ হুংকার দিয়ে ওঠেন, আরে! আর কত মুসলমানদের পিছিয়ে রাখবে এই মোল্লারা, আধুনিক এই যুগে প্রযুক্তি ছাড়া কি চলা যায়? আধুনিকতার স্রোতে গা ভাসাতে শুরু করলাম আমরা। ভাসতে ভাসতে এমন এক ভয়ংকর দ্বীপে এসে পৌঁছেছি, যেখানে সেলফি ছাড়া আর কিছুরই কদর হয় না। দাওয়াতের মেহনতে বের হলে সেলফি, কিতাবের পাতায় ডুবে থাকার সেলফি, নামাজের মুসল্লা, ইফতারের দস্তরখানা, মসজিদের মিম্বর, কোরবানির গরু, দান-খয়রাত থেকে শুরু করে হেন কোনো কাজ নেই যেখানে আমাদের সেলফি ছাড়া চলে না। সেলফির বাড়াবাড়ির কারণে তো হজে সেলফি তোলার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি পর্যন্ত আরোপ করেছে সৌদি সরকার। আগে আলেমরা ফতোয়া দিয়েছেন, এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মেন্টর সবাই বলা শুরু করেছেন অতিরিক্ত ডিভাইস চালানো ভয়ংকর অসুস্থতা। কথায় কথায় সেলফি তোলা ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। এমনকি এর প্রভাব পড়ছে শারীরিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনেও। আসলে এখনই সময় এসেছে সেলফি নামক ভয়ংকর ফেতনা থেকে জাতিকে সচেতন করার। সবচেয়ে বড় কথা হলো, একজন নেককার মুসলমান কখনো সেলফির নেশায় পড়তে পারেন না। বিশেষ করে ইবাদত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তো নয়ই। কেননা, ভালো কাজে সেলফি তুলে তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বহু আগে থেকেই ইসলামে নিষিদ্ধ। হাদিসে এটাকে রিয়া বা লোকদেখানো আমল বলা হয়েছে। আমার নেক কাজ মানুষ দেখবে এতে আমার ভিতর ভালো লাগা কাজ করবে এটাই রিয়া। একটা ভালো কাজ করলাম, কেউ দেখল না, আলোচনা করল না, অমুক খুব ভালো মানুষ, ভালো কাজ করেছে এমন কোনো মন্তব্য কানে এলো না; তাহলে ভালো কাজ করে কী লাভ-এ মানসিকতাই রিয়া।

Comments
No comments
Add a comment: