মৃত্যু কখন আসে, কেউ জানে না
মানুষের জীবন সসীম, কিন্তু স্বপ্ন ও আশা অসীম।
আগামী ১০-২০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে মানুষ ছুটে চললেও কখন জীবনের শেষ মুহূর্ত চলে আসবে, তা কেউ জানে না। বয়স, সুস্থতা, সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান—কোনোটিই জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।’ সুরা আলে ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে এ কথা বলা হয়েছে। ইসলাম মৃত্যুকে স্মরণ রাখতে এবং ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে পরকালের জন্য প্রস্তুত হতে বলে।
কারণ মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। একজন মানুষ জন্মের আগেই মারা যেতে পারে, আবার শতায়ু পর্যন্ত বেঁচেও থাকতে পারে। সুরা লোকমানের ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু ঘটবে।’ মৃত্যুর কথা ভুলে গেলে মানুষ দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারে। সম্পদ, পদমর্যাদা, খ্যাতি ও ভোগ-বিলাসকে জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য মনে হতে পারে।
পবিত্র কোরআনে সুরা তাকাসুরের ১ থেকে ৪ নম্বর আয়াতে প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতায় মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখতে এবং আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অধিক পরিমাণে আনন্দ-বিনাশকারী বিষয় মৃত্যুকে স্মরণ করো।’—জামে তিরমিজি, হাদিস ২৩০৭। এ ছাড়া তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’—সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০১৮।
তবে মৃত্যুর স্মরণ মানে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা বৈরাগ্যের জীবন বেছে নেওয়া নয়। বরং ইসলাম মৃত্যুকে স্মরণ করতে বলে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য। সুরা হাশরের ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে সে আগামী দিনের জন্য কী পাঠিয়েছে।’ তাই প্রতিদিন নিজের কাজের হিসাব নেওয়া জরুরি—আল্লাহর জন্য কী করেছি, কারও অধিকার নষ্ট করেছি কি না, কারও প্রতি অন্যায় করেছি কি না কিংবা ভালো কোনো কাজ করার সুযোগ পেয়েও তা ছেড়ে দিয়েছি কি না।
মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু কখন, কোথায় এবং কীভাবে সেই মৃত্যু আসবে, তা অজানা। তাই দুনিয়ার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার পাশাপাশি পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকাই ইসলামের শিক্ষা।

Comments
No comments
Add a comment: