নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ের রোমান্টিক হিরো ফেরদৌস আহমেদের জন্মদিন আজ- শুভ জন্মদিন।

ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস। বিশেষ করে নব্বই দশক এবং শূন্য দশকের প্রথম ভাগে তার জনপ্রিয়তা ছিলো প্রথম সারিতে। বহু দর্শকনন্দিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।
আজ ৭ জুন ফেরদৌসের জন্মদিন। ১৯৭৬ সালের এই দিনে কুমিল্লার তিতাসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ফেরদৌস পড়াশোনা করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
ফেরদৌসের ক্যারিয়ার শুরু হয় একজন র্যাম্প মডেল হিসেবে। খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলের হাত ধরেই তার পথচলা আরম্ভ হয়। সিনেমায় ফেরদৌসের আগমন ঘটে নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবুর মাধ্যমে। নৃত্যনির্ভর ‘নাচ ময়ূরী’ নামের একটি সিনেমায় ফেরদৌসকে যুক্ত করেন। কিন্তু সে সিনেমা শেষ করতে পারেননি আমির হোসেন বাবু।
এরই ফাঁকে প্রয়াত হন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। তার একটি অসমাপ্ত সিনেমা ছিলো ‘বুকের ভেতর আগুন’। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ওই সিনেমার মাধ্যমেই অভিষেক হয় ফেরদৌসের। যেখানে সালমানের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
আত্মপ্রকাশের এক বছর পর ১৯৯৮ সালে জনপ্রিয়তা লাভ করেন ফেরদৌস। ভারতের নির্মাতা বসু চ্যাটার্জির নির্মাণে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’তে অভিনয় করে দুই বাংলায় তারকাখ্যাতি পান তিনি। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ফেরদৌসকে।
ফেরদৌস অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- পৃথিবী আমারে চায় না, চুপি চুপি, এই মন চায় যে, সবার উপরে প্রেম, প্রেমের জ্বালা, বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ, প্রাণের মানুষ, চন্দ্রকথা, খায়রুন সুন্দরী, দুই নয়নের আলো, ফুলের মত বউ, গোলাপী এখন বিলাতে, গেরিলা, এক কাপ চা, বৃহন্নলা, অনিল বাগচীর একদিন, জাগো, গঙ্গাযাত্রা, টক ঝাল মিষ্টি, ব্যাচেলর, বউ-শ্বাশুড়ির যুদ্ধ, তুমি বড় ভাগ্যবতী, আমার স্বপ্ন তুমি, আমার আছে জল ইত্যাদি।
দক্ষ অভিনেতা হিসেবে দারুণ পরিচিতি রয়েছে ফেরদৌসের। সফল ক্যারিয়ারে তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া একবার বাচসাস পুরস্কার ও তিনবার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ফেরদৌস বিয়ে করেছেন তানিয়াকে। ২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়। নুহজাত ফেরদৌস ও নুজরান ফেরদৌস দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার।

Comments
No comments
Add a comment: