গহনার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুললেন বুলবুল টুম্পা

গহনার ঝলক, র্যাম্পের আলো আর মুগ্ধ করা ক্যাটওয়াক—সব মিলিয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছিল ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬’।
ঝলমলে অলংকারের সৌন্দর্যকে দর্শকের সামনে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও মডেল বুলবুল টুম্পা। কার্নিভালে রানওয়ে ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বুলবুল টুম্পা। তার সৃজনশীল পরিকল্পনায় র্যাম্পে গহনা কখনো পেয়েছে ঐতিহ্যের আবহ, কখনো আধুনিকতার ছোঁয়া, আবার কখনো ফুটে উঠেছে রাজকীয় ভঙ্গিমায়।

গহনা শুধু সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়, সঠিক উপস্থাপনায় তা হয়ে উঠতে পারে একটি গল্পের অংশ। সেই গল্পকে র্যাম্পের আলো, সংগীত, পোশাক ও মডেলদের চলন এবং অভিব্যক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার কাজটি করেছেন টুম্পা। কার্নিভালের র্যাম্পে মডেলদের প্রতিটি পদক্ষেপ, অভিব্যক্তি ও উপস্থাপনার ধরনেও ছিল পরিকল্পনার ছাপ। তার নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কিউ অনুযায়ী জমকালো অলংকারের সাজে মডেলরা র্যাম্পে উঠে আসেন। আত্মবিশ্বাসী ক্যাটওয়াক ও নান্দনিক ভঙ্গিমায় গহনা প্রদর্শন করেন তারা। টুম্পার কোরিওগ্রাফির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল প্রতিটি ব্র্যান্ড ও গহনার ধরন অনুযায়ী আলাদা উপস্থাপনা।

একই ছন্দে সব কালেকশন উপস্থাপন না করে তিনি প্রতিটি গহনার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের হীরা ও আধুনিক ফিউশন গহনার জন্য ছিল তুলনামূলক ওয়েস্টার্ন ও এলিগেন্ট উপস্থাপনা। অন্যদিকে কুঞ্জ ও ভেনাস জুয়েলার্সের ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালংকারে গুরুত্ব পেয়েছে দেশীয় আভিজাত্য ও পরিমিত গাম2509;ভীর্য। জরোয়া হাউস ও আমিন জুয়েলার্সের ব্রাইডাল কালেকশনে র্যাম্পের গতি রাখা হয় ধীর, স্থির ও রাজকীয়। এতে ভারী অলংকারের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নকশা দর্শকদের কাছে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। পোশাক, স্টাইলিং ও আলোর সমন্বয় একটি ফ্যাশন শোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে শুধু কোরিওগ্রাফিই যথেষ্ট নয়। পোশাক, স্টাইলিং, আলো, সংগীত ও ক্যামেরার ফ্রেম—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। বাজুস কার্নিভালেও এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করেছে বুলবুল টুম্পা ও তার কোরিওগ্রাফি টিম।

নিজস্ব স্টাইলিং এবং আজরানের পোশাকের সঙ্গে অলংকারের সামঞ্জস্যও র্যাম্পের উপস্থাপনাকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে। র্যাম্প থেকে টেলিভিশনের পর্দায় কার্নিভালটি চ্যানেল আই, ডিবিসি নিউজ, বাংলাভিশন ও নিউজ২৪-এ সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় রানওয়ে ডিরেকশনে বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল। হলের দর্শকদের পাশাপাশি টেলিভিশন দর্শকদের কাছেও যেন গহনার সৌন্দর্য ও মডেলদের উপস্থাপনা আকর্ষণীয়ভাবে ফুটে ওঠে, সেদিকেও নজর রাখা হয়। ক্যামেরার ফ্রেম, মডেলদের অবস্থান এবং র্যাম্পে চলার গতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি পরিবেশনা সাজানো হয়।

ফলে সরাসরি সম্প্রচারের পর্দাতেও গহনার নকশা, ঝলক ও উপস্থাপনার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬-এর র্যাম্পে বুলবুল টুম্পার রানওয়ে ডিরেকশন গহনাকে শুধু প্রদর্শনের বস্তু হিসেবে না রেখে পোশাক, শরীরী ভাষা, আলো ও সংগীতের সঙ্গে মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতায় রূপ দিয়েছে। বাংলাদেশের ফ্যাশন অঙ্গনে বড় আয়োজনের র্যাম্পকে আরও পরিশীলিত উপস্থাপনায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার এই কাজ উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments
No comments
Add a comment: