কোটি হৃদয়ের স্পর্শে মোড়ানো কাবার গিলাফ যেভাবে তৈরি হয়
কোটি হৃদয়ের স্পর্শে মোড়ানো কাবার গিলাফ যেভাবে তৈরি হয় কোটি কোটি হৃদয়ের স্পর্শে মোড়ানো একটি কাপড়।
এটা শুধু পবিত্র কাবাকেই ঢাকে না, লাখ লাখ মানুষের চোখের পানি, আবেগ ও ভালোবাসাকে ঢেকে রাখে। এটাই কাবার গিলাফ- কিসওয়াহ। বিশ্বের সবচেয়ে দামি পোশাক, সে জড়িয়ে থাকে সবচেয়ে পবিত্র ঘরটিকে। টানা ১১ মাস কাজ করে সৌদি আরব পবিত্র কাবার নতুন গিলাফ তৈরি সম্পন্ন করেছে। এটা সূক্ষ্ম কারুকাজ ও আন্তরিক পরিশ্রমের এক নমুনা। কাবার গিলাফ মূলত ৪৭টি কাপড়ের টুকরোর সমন্বয়। ৮২৫ কেজি কালো প্রাকৃতিক রেশম কাপড়ের এসব অংশে ১২০ কেজি সোনা ও ৬০ কেজি রূপার সুতা দিয়ে ৬৮টি কোরআনের আয়াত ক্যালিগ্রাফি করে লেখা রয়েছে। সবমিলিয়ে কাবার গিলাফের ওজন ১ হাজার ৪১৫ কেজি। এবারের গিলাফ তৈরিতে খরচ হয়েছে ২৫ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
বাংলাদেশি টাকায় তা প্রায় ৭৬ কোটি। কিসওয়া পবিত্রতা ও ইসলামি কারুশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। আগের যুগে বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহরা কাবার জন্য গিলাফ পাঠাতেন। কিন্তু সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর কাবার গিলাফ তৈরির জন্য আলাদা একটি কারখানা স্থাপন করা হয়। কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য কিসওয়া অব দ্য কাবা নামের ওই কারখানা মক্কার পাশে উম্মুল জুদ এলাকায় অবস্থিত। এবারের গিলাফ প্রস্তুতের কাজ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়। দীর্ঘ ১১ মাস নানা প্রক্রিয়ায় সাত প্রকার উন্নতমানের কাপড় দিয়ে তৈরি হয় ৪৭টি প্যানেল। প্রতিটি প্যানেলে যুক্ত থাকে কিসওয়ার বিখ্যাত সোনালি ‘হিজাম’ বা বেল্টের সূচিকর্ম। কাবার গিলাফ তৈরিতে অভিজ্ঞ ডিজাইনার, দক্ষ শিল্পী, ক্যালিগ্রাফার ও বয়ন বিশেষজ্ঞরা এ কাজে অংশ নেন। প্রতিটি ধাপ, কাপড় কাটা, বোনা, সূচিকর্ম ও চূড়ান্ত জোড়ার কাজ, গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়, যেন নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় থাকে।
গিলাফের বাইরের স্তর তৈরি হয় কালো রেশম দিয়ে। তীব্র রোদের দীপ্তিতে যেন এর রঙ নষ্ট না হয়, সে জন্য নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। আর গিলাফের ভেতরের স্তরে রয়েছে- সবুজ রেশম, ঐক্য ও শান্তির প্রতীক সাদা সুকারি ও সাধারণ সুতির কাপড়। গিলাফে কোরআনে কারিমের নির্বাচিত আয়াত, আল্লাহতায়ালার গুণবাচক কয়েকটি নাম যেমন- আর রাহমান ও আর রহিম, ঈমানের ঘোষণা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, গিলাফ তৈরির সাল, বাদশাহর নাম এবং ক্যালিগ্রাফার আবদুর রহিম আমিন বোখারির নাম লেখা রয়েছে। এছাড়া গিলাফে পবিত্র কাবার মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও একত্ববাদের বার্তা দেয় যেসব আয়াত- সেগুলো লেখার পাশাপাশি পারস্পরিক দয়া, ঐক্য ও ভক্তির বিষয়বস্তু সম্বলিত আয়াতগুলো লেখা হয়

Comments
No comments
Add a comment: