২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানো দরকার:
একটি জাতির উন্নতি, অগ্রগতি সে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি দ্বারা নিরূপন করা হয়। তাই সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য। আর এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া। বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এখনো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো, মানসম্মত শিক্ষক, আধুনিক পাঠ্যপুস্তক, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি এখনো স্পষ্ট। আর এসব সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি অপরিহার্য। UNESCO-এর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে GDP-এর ৪-৬% এবং জাতীয় বাজেটের ২০% বরাদ্দ করা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে দেখা যায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির ১.৭৬% এবং বাজেটের ১১.৬% বরাদ্দ যা ছিল ৮৮,১৬২ কোটি টাকা।২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির ১.৭% এবং বাজেটে ১১.৮৮% যা ছিল ৯৪, ৭১০ কোটি টাকা। যদিও বরাদ্দের পরিমাণ বেড়েছে, তবুও এটি এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম। টেকসই লক্ষ্যমাত্রা উন্নয়ন (SDG4) অর্জনের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি অপরিহার্য। শিক্ষায় বিনিয়োগ মানে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।কর্মসংস্থান তৈরি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের জন্য TVET (টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং) খাতে বড় বিনিয়োগ দরকার। কারণ এখানে বিনিয়োগ ঘাটতি আছে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গবেষণার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত আর তাই রিসার্চ ফ্যাসিলিটিজ বাড়ানোর জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানো দরকার। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ, গবেষণার সুযোগ বাড়ানো এবং দক্ষ, সমৃদ্ধ ও টেকসই জাতি গঠন সম্ভব।
তাহমিনা আক্তার মিম
শিক্ষার্থী, বিবিএ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে:
শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড। যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত এবং এগিয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয় বেশি থেকে বেশি গবেষণা করা। গবেষণা আমাদের সমাজের উন্নতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনমানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। কোনো সমাজে যখন নতুন জ্ঞান বা প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়, তখন সেটির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় গবেষণাগার। তাই সমাজে আমূল পরিবর্তন ঘটাতে গবেষণাগারের ভূমিকা অপরিসীম। এক একটি প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণা করার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারে। যেমন- কোনো শিক্ষার্থী যদি বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য ডিগ্রি নিতে চায় তাহলে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন বেশি থেকে বেশি গবেষণা করা। এছাড়াও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গবেষণা করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে- বাংলাদেশের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত গবেষণাগার। গবেষণা নতুন নতুন উদ্ভাবন ও সৃষ্টির দরজা খুলে দেয়। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প এবং পরিবেশ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গবেষণা আমাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তবে তা কেবল প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্যই নয় বরং পুরো সমাজ ও দেশের উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে আমরা নতুন সমাধান, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়াতে পারি। এবছর দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫৪১ টি। এরপর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি ১০৭৩ টি, বুয়েট ৮৯৯ টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৬৬০ টি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ৬৫৬ টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৬২৩ টি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৮ টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫১ টি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ৫৪৪ টি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫৪৩ টি। এখানে দেখা যায়- বাংলাদেশের কোনো কলেজ থেকে এবছর গবেষণা পত্র প্রকাশ করতে পারেনি। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো- এর দায়ভার কে বা কারা নিবে? এখানে কি শিক্ষার্থীর দোষ? নাকি গবেষণা করার জন্য কোনো সুযোগ ই পায় নি? এদিকে দেখা যায় যে- গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল, সুযোগ এবং পরিবেশ থাকাও প্রয়োজন। গবেষণায় উৎসাহিত করতে হলে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। একমাত্র তাহলে সব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। গবেষণা একটি সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া। যা সময়, সম্পদ এবং সঠিক দিক নির্দেশনার দাবি করে। এজন্য একটি সুসংগঠিত গবেষণার নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করা আবশ্যক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এ সুযোগ সুবিধা পায়। গবেষণার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে আমরা শুধু নতুন আবিষ্কারই নয়, বরং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে পারব। যা ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল পৃথিবী তৈরি করবে।
রবিউল হাসান সাগর
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (২০২৩-২৪)
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।
গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা দরকার:
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে, ধানখেতের পাশে, মাটির পথে, লুকিয়ে আছে অগণিত শিশুর ডাক্তার, প্রকৌশলী কিংবা দেশ পরিচালনায় একজন সুদক্ষ কারিগর হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু এই স্বপ্নগুলো প্রায়শই ভেঙে চুরমার হয় জরাজীর্ণ স্কুলের দেয়ালে, শিক্ষকের অভাবে আর ডিজিটাল শিক্ষার দুর্লভতায়। গ্রামের অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে আছে ফুটো ছাউনি, যেখানে বর্ষার পানি গড়িয়ে পরে, আর শীতের হিমেল হাওয়া শিক্ষার্থীদের কাঁপিয়ে তোলে। দূরবর্তী গ্রামে স্কুলে যেতে কয়েক কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি নিঃশেষ করে। শিক্ষকের ঘাটতি পাঠদানকে বিঘ্নিত করে, আর ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের মতো আধুনিক শিক্ষার সরঞ্জাম তো গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের কাছে অলীক স্বপ্ন । এই ঘাটতিগুলো শুধু শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে সীমিত করছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিকে দুর্বল করছে। শিক্ষার অভাবে দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি ব্যাহত হচ্ছে, যা গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন বাড়াচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। ফলে, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরের পথও কণ্টকাকীর্ণ হচ্ছে। এঅবস্থায় গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ এখন শুধু নৈতিক দায় নয় , বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্ন। এই বরাদ্দ আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি, এবং ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করবে।যা শিক্ষার্থীদের মেধাকে প্রস্ফুরিত করে, তাদেরকে ভবিষ্যত বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করবে। গ্রামীণ শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় অগ্রগতিও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের অবহেলা, রাষ্ট্রের লজ্জা। তাদের স্বপ্নের পাখা মেলে দেওয়ার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ অতীব জরুরী। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের জীবন বদলাবে না, বাংলাদেশকে বিশ্ব মঞ্চে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রজ্ঞা দাস
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ
ইডেন মহিলা কলেজ
পরিবহন সুবিধা বাড়াতে হবে:
শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াত, সুরক্ষা এবং আর্থিক সামর্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত পরিবহন খাত। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। এসব বহুমাত্রিক সমস্যা মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের রয়েছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কিছু প্রত্যাশা। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত যাতায়াত ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা ও দুর্বিষহতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমস্যার তালিকায় শুরুর দিকেই থাকে চলে আসে- অনর্গল বর্ধিত পরিবহন ব্যয়। স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত খরচ থাকে খুবই নগন্য । তার উপর পরিবহন ভাড়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি যেন বোঝার উপর শাকের বোঝা হিসেবে দাড়িয়েছে; যা নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়াও গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পরিবহনের অভাবে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যাতায়াত, ছাত্রীদের লোকাল পরিবহনে হয়রানি, নিরাপত্তার অভাব, চুরি এবং ছিনতাই এর প্রবণতা, দক্ষ চালকের অভাবে দুর্ঘটনা, হাফ ভাড়া সুবিধার বিলুপ্তিপ্রায় অবস্থা, পর্যাপ্ত বাস ও বাহনের অভাব, দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের বারবার বাহন পরিবর্তনের কারণে সময় অপচয় ও অবসন্ন হয়ে পড়া, সামাজিক কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্নতা ও আরোও অনেক প্রাসঙ্গিক সমস্যা।
এই সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষার্থীদের জন্য আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকার শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবহন নীতি গ্রহণ করা উচিত। প্রতিটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়সূচি অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন চালু করা হোক, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সর্বত্র হাফ ভাড়া নিশ্চিত করা হোক। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য চালকদের প্রশিক্ষন নিশ্চিতকরণ, দূরপাল্লার গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন সুবিধা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন জায়গায় যানজট নিরসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কালীনে। নিজস্ব পরিবহন না থাকলেও অন্তত যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে পরিবহন খাতের নির্দিষ্ট বরাদ্দ অর্থ যেন প্রতিষ্ঠানের বাজেটে স্থান পায়। তাছাড়াও ছাত্রীদের বহু কালের দাবী তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসা হোক। সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের পরিবহন খাতের বাজেট নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হলো- সরকার নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও তথ্যভিত্তিক যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নাজিয়া আলম মীম
শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মনোনয়নে বরাদ্দ:
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন দক্ষ শিক্ষকই পারেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করতে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সরকার প্রতি বছর প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে আধুনিক পাঠদানের কৌশল, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হবে অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষকদের উন্নয়নে। প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষক মনোনয়নে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য রক্ষায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে শিক্ষক নির্বাচন হবে মেধা, প্রয়োজন ও এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মনে করি, এই ধরনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শিক্ষার মানোন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। দক্ষ ও যুগোপযোগী শিক্ষক আমাদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। তবে বরাদ্দ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বাস্তবায়নেও যাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সে প্রত্যাশা করি। এছাড়াও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মনোনয়নে বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে করে তারা ভালো মানের শিক্ষা দিয়ে শিক্ষিত করতে পারে পুরো ছাত্রসমাজকে।
শফিকুল ইসলাম আসিফ
শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ
কবি নজরুল সরকারি কলেজ

Comments
No comments
Add a comment: