ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে, বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
ভারত দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ১৫টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, যা তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান এ দাবি অস্বীকার করে বলছে, তারা নতুন করে আরও ৪৮টি ভারতীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সব মিলিয়ে দুই দিনে ৭৭টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের হামলার হুমকির মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতটি ছিল ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর মানুষের জন্য ভয়াবহ। এসব রাজ্যের অনেক শহর একেবারে বিদ্যুৎহীন বা ব্ল্যাকআউট করে ফেলা হয়। জারি করা হয় কারফিউ। নিরাপত্তা বাহিনী ও চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও। পরে রাতেই পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর জানায় ভারতের গণমাধ্যম। পাকিস্তান এ দাবি অস্বীকার করেছে। গণমাধ্যমে ভারতে সীমান্ত শহরগুলোতে যুদ্ধ-সাইরেন বেজে ওঠার খবর প্রকাশ হয়। গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় রাতের মতো রাজস্থানের বারমার, জয়সালমার, বিকানার, শ্রীনগর, জোদপুরসহ বিভিন্ন শহরে ব্ল্যাকআউট ঘোষণা করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ব্ল্যাকআউট থাকবে। হরিয়ানা সরকার সব পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি স্থগিত করেছে। গুজরাটের বনস্কণ্ঠ, পাটান ও কুচ জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকা থেকে লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১৫টি শহর ব্ল্যাকআউটের আওতায় রয়েছে। এসব শহরে রাতে সাইরেনের শব্দ ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।জিও নিউজ জানায়, পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে নারী-শিশুসহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে রাজনীতিতে ব্যবহারের ভারতের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এ সময় তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে পাকিস্তান তার সম্মান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। এর আগে বুধবার তিনি বলেছিলেন, ভারতের যে কোনো দুঃসাহসিকতার জবাবে পাকিস্তানের পাল্টা পদক্ষেপ হবে সিদ্ধান্তমূলক ও জোরালো। এর প্রতিধ্বনী বিশ্ব শুনতে পাবে। ভারতের পক্ষ থেকেও অনমনীয় থাকার বার্তা এসেছে। শুক্রবার দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে এ বৈঠকে পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা ও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে রাজনাথ সিং বলেন, ‘দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে আমাদের সামনে কোনো সীমারেখা নেই।’
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের (আজাদ কাশ্মীর) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা ও সংলগ্ন এলাকায় ভারতের গুলিবর্ষণে দুই নারীসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর সরকার ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, গোলাবর্ষণে দুটি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। গত বুধবার থেকে আজাদ কাশ্মীরে ১৭ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হন। ১৩৯টি আবাসিক বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তিনি বলেন, সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের সামরিক পোস্ট লক্ষ্য করে শুধু ছোট অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান ড্রোন বা রকেট হামলায় জড়িত নয়। ভারতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রতিটি হামলার ইলেকট্রনিক সিগন্যাল থাকে। ভারতীয় মিডিয়া পাকিস্তানি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। কিন্তু ধ্বংসাবশেষ কোথায়? যদি ভারত পাইলটকে ধরে থাকে, তাহলে পাইলট কোথায়?এদিকে পুঞ্চের পুলিশ কর্মকর্তা নাভিদ আহমেদ বিবিসিকে জানান, নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে বৃহস্পতিবার রাতেও ভারী গোলাবর্ষণ হয়েছে। এতে একজন নিহত ও এক নারী আহত হয়েছেন। নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি বারামুল্লা, কুপওয়ারা ও ব্যান্ডিপোরার মতো এলাকার পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। কুপওয়ারার কিছু সেক্টরে গোলাগুলির কারণে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতীয় সেনাবাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরে রেড অ্যালার্ট জারি করে এবং বেসামরিক প্রশাসন ব্ল্যাকআউট ঘোষণা করে। এ কারণে রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

Comments
No comments
Add a comment: