বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হবে। বিশ্বের অনেক দেশে ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি পালনে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন একসঙ্গে কাজ করে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন করা এবং সহানুভূতিশীল ও সহায়ক আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলা।’
ল্যানসেটের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে এক লাখ মানুষের মধ্যে ৮ দশমিক ১ জন আত্মহত্যা করেছেন। ২০২১ সালে তা কমে ৩ দশমিক ৬৬ জনে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে ২০২১ সালে আত্মহত্যা করেন ছয় হাজার ৫০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তায় জাতীয় জরিপ (২০২২-২৩) করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ২০ হাজার ৫০৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫৬ জন দেশের কোথাও না কোথাও আত্মহত্যা করেছেন। প্রতি লাখে আত্মহত্যা করেছিলেন ১২ দশমিক ৪ জন। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করেছিলেন ২৩ হাজার ৮৬৮ জন; প্রতি লাখে ১৪ দশমিক ৭ জন।
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রি স্টস (বিএপি), বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি (বিএমএসএস), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগ এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএমএইচ) যৌথ উদ্যোগে র্যালি, সায়েন্টিফিক সেমিনার ও ফটোগ্রাফি কম্পিটিশনের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী প্রফেসর ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। ১৫-২৯ বছর বয়সি তরুণদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এটি। উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোতেও আত্মহত্যার হার দ্রুত বাড়ছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন।

Comments
No comments
Add a comment: