বাংলাদেশ ও রাশিয়া বন্ধু: স্পিকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক অকৃত্রিম বন্ধুত্বের। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত সরকার বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়ে বন্ধুত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত সরকার সহায়তা করে, যার ফলে দ্রুত বন্দরটি সচল করা সম্ভব হয়। এ কাজ করতে গিয়ে এক তরুণ সোভিয়েত নাগরিক প্রাণ হারান। রাশিয়ার এসব অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলেও জানান তিনি।
স্পিকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষক দল অংশ নিয়ে নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা খাতে সহযোগিতা, মানবসম্পদ রপ্তানি, জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আটকে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। তিনি জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এ সময় রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। স্পিকার রাশিয়ার সঙ্গে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ নবায়ন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Comments
No comments
Add a comment: