বর্ষাকালে বাড়ছে কনজাংটিভাইটিস বা চোখের ফ্লু

বর্ষাকাল মানেই আর্দ্রতা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং বৈরি আবহাওয়া।
যে কারণে এই ঋতুতে বেড়ে যায় নানান ধরণের সংক্রমণ। বিশেষ করে চোখের কনজাংটিভাইটিস বা চোখের সংক্রমণ। এই ভাইরাল কনজাংটিভাইটিসটি হলো একধরণের ‘চোখের ফ্লু’। মূলত চোখে কোনোভাবে দূষিত পানি প্রবেশ করলে এই সংক্রামণটি ছড়ায়। যার ফলে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পানি পড়া, ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাগুলো দেখা দেয়। এ নিয়ে ভারতের ছানি ও রেটিনা সার্জন ডা: ‘পবন গুপ্ত’ এর বলেন, বর্ষাকালে চোখের সবচেয়ে বেশি ‘কনজাংটিভাইটিস’ এবং ‘স্টাই’ এর সংক্রামণ দেখা যায়। তাই তিনি বলেন এই সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।ডা: গুপ্ত বলেন, ডায়াবেটিস বা অ্যালার্জির রোগীরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এবং তাদের যেকোনো সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। ‘কনজাংটিভাইটিস’ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে সমস্যা গুরুতর হলে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এ ধরণের সংক্রমণের জন্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাত ধোঁয়া, চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা, অন্যের ব্যাক্তিগত জিনিস ব্যবহার না করা। এই সময়টা বাড়িতে থাকার, চশমা পরার এবং চিকিৎসা নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে চোখের ড্রপ দেওয়ার আগে অবশ্যই হাত পরিষ্কার করতে হবে।করণীয়: হাত এবং চোখ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা রুমালের পরিবর্তে পরিষ্কার টিস্যু ব্যবহার করুন পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলা সংক্রমণ বাড়তে থাকলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া নোংরা হাতে চোখ স্পর্শ না করা অন্যের তোয়ালে বা বিছানার চাদর ব্যবহার না করা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন না করা বর্ষাকালে যেহেতু এ ধরণের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও চোখের সংক্রমণ মূলত প্রতিরোধযোগ্য। নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা গ্রহণ আপনার চোখকে পুরো ঋতু জুড়ে নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সংক্রমণমুক্ত রাখতে পারে।

Comments
No comments
Add a comment: