প্রকাশ্যে এপস্টেইনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’, কী লেখা ছিল শেষ চিরকুটে

যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক এমন একটি নথি প্রকাশ করেছেন, যেটিকে প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের আত্মহত্যার চিরকুট বা ‘সুইসাইড নোট’ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) নথিটি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যৌন পাচার ও একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত নথিতে লেখা রয়েছে, পৃথিবীকে ‘বিদায় জানানোর সময় নিজে বেছে নিতে পারা এক ধরনের আনন্দ।’ হাতে লেখা নোটটি এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট এবং খুনের দায়ে দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওনের মাধ্যমে উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস এ নোটের অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর টারটাগ্লিওনের মামলার দায়িত্বে থাকা মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস নথিটি প্রকাশের নির্দেশ দেন। বিচারক কারাস বলেন, এটি একটি ‘বিচার বিভাগীয় নথি’ এবং জনসাধারণের দেখার অধিকার রয়েছে, কারণ এটি টারটাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। টারটাগ্লিওন বর্তমানে মাদক-সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারটি যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। তবে বিচারক নোটটির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। এছাড়া এটি কার কার হাত ঘুরে আদালতে এসেছে, সেই বিষয়টিও তিনি মূল্যায়ন করেননি। তার মতে, নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে এসব বিষয় প্রাসঙ্গিক নয়। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, নোটটি গোপন রাখার মতো কোনো আইনি কারণ পাওয়া যায়নি।
আদালতের নথিতে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হলুদ লিগ্যাল প্যাডে লেখা চিরকুটে উল্লেখ রয়েছে—‘তারা কয়েক মাস ধরে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে, কিন্তু কিছুই খুঁজে পায়নি। এরপর ১৫ বছর আগের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। বিদায় জানানোর সময় নিজে নির্ধারণ করতে পারা এক ধরনের আনন্দ। তোমরা কি চাও আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি? এতে কোনো মজা নেই, এর মূল্যও নেই।’ এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। যদিও বিতর্কিত সমঝোতার কারণে তার স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয় এবং নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথম এই নোটের বিষয়টি সামনে আসে। এর কিছুদিন আগে কারাগারের কক্ষে গলায় আঘাতের চিহ্নসহ এপস্টেইনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, যা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যার চেষ্টা বলে উল্লেখ করে। টারটাগ্লিওনের দাবি, নোটটি তাদের সেলের একটি বইয়ের ভেতরে লুকানো ছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট এপস্টেইনকে পৃথক ঘটনায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। গত বছর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারেও টারটাগ্লিওন নোটটির বিষয়ে কথা বলেছিলেন।
তবে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে ব্যাপক আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেডারেল তদন্তকারীরা আগে কখনও এই নোট দেখেননি এবং বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথির মধ্যেও এটি ছিল না। নথি প্রকাশের নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারক ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যুক্তিও খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু ও কথিত এই নোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা রয়েছে।

Comments
No comments
Add a comment: