নোয়াখালীতে ধর্ষণ করতেই চুরির ঘটনা সাজায় আওয়ামী লীগ নেতা , এসপির সংবাদ সম্মেলন

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আবুল খায়ের মুন্সি তার জমির বর্গাচাষী মো. মেহরাজকে (৪৮) দিয়ে ওই গৃহবধূর বসতঘরে সিঁধ কাটায়।
সিঁধ কেটে মেহরাজ ঘরে প্রবেশ করে দরজা খুলে দিলে স্থানীয় গরু বেপারী মো. হারুনকে (৪২) নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন আবুল খায়ের মুন্সি।এরপর আবুল খায়ের মন্সি ও হারুন পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় মেরহরাজ ওই নারীর পঞ্চম শ্রণি পড়ুয়া ১২ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করেন।ঘটনার সময় অবুল খায়ের মুন্সির পরনে থাকা কালো প্যান্ট, কালো কানটুপি, সিধ কাটার কাজে ব্যবহৃত কোদাল, কাচি জব্দ করে পুলিশ।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মো: মেহরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।এরপর তাকে এবং এ মামলার প্রধান আসামি চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের মুন্সিকে মুখোমুখি করা হলে তারা পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণানা দেন।
এসপি বলেন, মো. হারুনের সহযোগিতায় ওই নারীকে খাট থেকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে মাটিতে কাঁথা বিছিয়ে আবুল খায়ের মুন্সি পায়ের বাঁধন ও পরিহিত সেলোয়ার খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আবুল খারের মুন্সি হারুন ওই নারীকে ধর্ষণ করে।চুরির কাজে আনা মেহরাজ পাশের রুমে থাকা ওই নারীর মেয়েকে (১২) ধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় কানে থাকা স্বর্ণের কানের দুল ও ঘরে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যায়। পরে মেয়ের হাতের বাঁধন খুলে দেয় এবং ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বললে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দেয়।তিনি আরও বলেন, মূলত হারুন গৃহবধূর বসতঘরে মালামাল আছে বলে মেহেরাজকে চুরি করতে উদ্বুদ্ধ করে। মেহরাজ রাজী হলে সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে। প্রবেশের পর হারুনের সাথে মুন্সি মেম্বারকে দেখে মেহরাজ অবাক হয় এবং বুঝতে পারে ধর্ষণ করতেই তাকে দিয়ে চুরির ঘটনাটি সাজিয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। সেখানে রিমান্ড প্রার্থনা করে তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
বাকি আসামি হারুনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) বিজয়া সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ ইব্রাহীম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজীব, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) নিত্যানন্দ দাস,
চরজব্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ জেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত, সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে চরওয়াপদা ইউনিয়নে চরকাজী মোখলেছ গ্রামের একটি নতুন বাড়িতে সিধ কটে এক গৃহবধূ ও তার শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘর থেকে দুটি নাকফুল, কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার ২২৫ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আবুল খায়ের মুন্সি ও মো: হারুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করে সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ, পরস্পর সহযোগীতায় গণধর্ষণ করা সহ ভয়ভীতি পর্শণের অপরাধে চরজব্বর থানা মামলা দায়ের করেন।মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহর থেকে আবুল খায়েরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গতকল রাতে চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মেহেরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেহেরাজ একই এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে হাতিয়া থেকে এসে চরকাজী মোখলেছ গ্রামে নতুন বাড়ি করেন একজন দিনমজুর। ওই বাড়িতে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ বসবাস করতেন।মাঝে মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গেলে ২-৩ দিন পর বাড়ির বাইরে থাকতেন। এর আগে কাজের সন্ধানে তিনি বাড়ির বাইরে যান। গ্রেপ্তার আবুল খায়ের মুন্সি বিভিন্ন সময় ওই নারীকে উত্যক্ত করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Comments
No comments
Add a comment: