ঢাকায় তারের জঞ্জাল যেন নগরবাসীদের গলার কাঁটা!
দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাঁদা ছোড়াছুড়িতে এখনো নগরজুড়ে তারের জঞ্জাল। ফলাফল যেকোনো দুর্যোগে আধুনিক যন্ত্র থাকার পরেও সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারে না ফায়ার সার্ভিস।বছরের পর বছর এসব অপসারণ নিয়ে কথা হলেও ফলাফল শূন্য। কোয়াবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দায় চাপাচ্ছে একে অন্যের ওপর।গেলো ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪; আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত বেইলি রোডে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু এরপরই বাধে বিপত্তি। অত্যাধুনিক টার্ন টেবিল ল্যাডার থাকা সত্ত্বেও সড়কে ছড়িয়ে থাকা তারের জঞ্জাল আটকেপড়াদের উদ্ধার অভিযানকে করে তোলে কঠিন। গুরুত্বপূর্ণ এ সময়েও মন্থর হয়ে যায় তৎপরতা। শুধু এদিনই নয়; ফায়ার সার্ভিসকে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় এ সমস্যার সঙ্গে। নগরে মাকড়সার জালের মতো এ তারের জঞ্জাল যেনো নগরবাসীর গলার কাঁটা। কখনো কখনো এ তারই হয়ে যায় দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু। ফায়ার সার্ভিস ল্যাডার অপারেটর মো. শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, তার থাকার কারণে এবং পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি।
ক্যাবল অপারেটর কিংবা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার সংগঠনগুলো এসব জঞ্জালের দায় চাপাচ্ছেন সিটি করপোরেশনের ওপর। তাদের দাবি, সিটি করপোরেশন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে তারের জঞ্জাল অনেক আগেই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আলী চঞ্চল বলেন, ‘ঢাকার প্রতিটি বাসায়, প্রতিটি এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল কানেকশন আছে। আমাদের কোন সমস্যা নেই। আমাদের সক্ষমতা আছে।’ একই সুরে কথা বললেন আইএসপিএবি সভাপতি মো. ইমদাদুল হক। সিটি করপোরেশনের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যদি বাইরের দেশের মতো আমাদের মাটির নিচ দিয়ে লাইনগুলো করে দিত, তাহলে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্যবলগুলো মাটির নিচ দিয়ে নিতে পারতাম।’ তবে মানতে নারাজ দুই সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে কাজ চলছে। দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বিষয়টিকে ইঁদুর-বিড়াল খেলার সাথে তুলনা করে বলেন, ‘আমরা অভিযান চালাচ্ছি, কাটতেছি। কিন্তু অবস্থা হচ্ছে এটা অনেকটা ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো। ক্যাবল অপারেটররা মনে করতেছে, তাদের অনেক খরচ যাবে। তারা মানতেছে না।’


Comments
No comments
Add a comment: