ড. মাহাবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের তিন শিক্ষার্থী আইফোন১৬,১৫ ও ১৪ প্রোম্যাক্স ছিনতাই

দোয়েল চত্ত্বর থেকে কলেজ শিক্ষার্থীদের আইফোন ছিনতাই অভিনব কৌশলে
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, বইমেলার আনন্দ ভাগ করে নিতে আমি , তাসরিফ ও আমার দুই বন্ধু হাসান, এবং আদি- সাইনবোর্ড এলাকায় একত্রিত হই। পরিকল্পনা ছিল একসঙ্গে বইমেলায় যাওয়ার। মেলায় পৌঁছে আমরা কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করি এবং পরে তথ্যকেন্দ্র থেকে আমাদের স্যারের স্টল (৬১০ নম্বর) খুঁজে বের করি। সেখানে স্যারের সঙ্গে ছবি তুলি, কথা বলি, এরপর আবার মেলার ভেতর ঘোরাঘুরি শুরু করি।
সন্ধ্যা হলে আমরা টিএসসি মোড়ে নাস্তা করতে যাই এবং পরবর্তীতে কার্জন হলের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পথিমধ্যে, আমরা দু'জন করে দুইটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যাই। ঠিক তখনই, হঠাৎ এক অচেনা ব্যক্তি এসে হাসানকে জিজ্ঞাসা করে, “তোমাদের সঙ্গে যে কালো ছেলেটি ছিল, সে ডিসিতে পড়ে না? সে এখন কোথায়?” হাসান উত্তরে জানায়, “জি ভাই, সে একটু পেছনে আছে।”
কিছুক্ষণ পর, যখন আমরা সেখান থেকে চলে আসতে চাইছিলাম, তখন সেই ব্যক্তি পেছন থেকে ডেকে বলে, “তোমরা কি চলে যাচ্ছ?” হাসান উত্তরে জানায় যে তিনি দাঁড়াতে বলেননি, তাই তারা চলে যাচ্ছিল। এরপর সেই ব্যক্তি আদির অবস্থান জানতে চায় এবং আমরা তাকে ফোন করি। আদি জানায় যে সে কার্জন হলের সামনে আছে। সেই ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে কার্জন হল পর্যন্ত যায় এবং সেখানে গিয়ে দাবি করে যে হাসান তার সঙ্গে বেয়াদবি করেছে।
হাসান সরলভাবে দুঃখ প্রকাশ করলেও, সেই ব্যক্তি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হুমকি দিয়ে বলে, “আমার বন্ধু যদি তোমাকে সান্ত্বনা না দিত, তাহলে তোমাকে শাস্তি দিতাম। তুমি কি জানো আমি কে? আমি ঢাবির শিক্ষার্থী | ঢাবির যেকোনো একজনকে জিজ্ঞাসা করো।” এরপর সে আমাদের ‘পরীক্ষা’ নেওয়ার কথা জানায়, যাতে বোঝা যায় আমরা বড়দের সম্মান করতে জানি কি না।
এরপর সে হাসানকে বাইকে উঠিয়ে কার্জন হলের ভেতরে নিয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আমাকে বাইকে তোলে, হাসানের ফোন আমার কাছে রাখতে বলে। পরে সে আমার কাছ থেকে ফোনটি নিয়ে হাসানের কাছে দেয়। এরপর আমাদের বাকি বন্ধুদের কাছে নিয়ে গিয়ে সবার ফোন চেক করে, তবে তাতে কিছু সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে আমাদের নম্বর সংগ্রহ করে।পরবর্তীতে সে জানায় যে আমাদের পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। আমরা তাকে জানাই যে আমাদের নামাজ পড়তে যেতে হবে। সে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে এবং এরপর মুসলিম হলের গেট দিয়ে বাইক চালিয়ে আমাদের ভিতরে নিয়ে যায়। এখানে এসে সে হাসানকে বাইক থেকে নামতে বলে এবং তার ফোনটি ফেরত নেওয়ার নামে নিজের কাছে রেখে দেয়। এরপর হাসানকে ওই জায়গায় রেখে আমাকে বন্ধুদের কাছে নিয়ে যায়।
এরপর এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে আমাদের ফোন একত্রে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে সে সিকদারের ফোনও নিয়ে নেয় এবং আমাকে বাইকে উঠিয়ে কার্জন হল এলাকা ঘোরাতে থাকে। পরে সে আমার ফোন চায়, যা দিতে আমি রাজি হইনি। তখন সে আমাকে ভয় দেখিয়ে ফোনটি কেড়ে নেয় এবং তার সঙ্গীকে আমার সঙ্গে রেখে অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে সে তার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করে আমি ভয় পেয়েছি কি না। সঙ্গী ‘না’ বললে সে আবার আমার ফোনটি নিয়ে চলে যায় এবং বলে যে সে আমার বন্ধুদের কাছে যাচ্ছে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটা দশ পর্যন্ত আমি একা শহীদ মিনারের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি, সম্পূর্ণ হতভম্ভ অবস্থায়। ধীরে ধীরে আমি বুঝতে পারি যে আমাদের চারজনকে চারটি ভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আমার মধ্যে ভয় কাজ করতে শুরু করে। আমি আশপাশের মানুষদের ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি, কিন্তু কেউ সাহায্য করতে রাজি হয়নি। অবশেষে, রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে আমি বাসায় কল দিতে সক্ষম হই এবং দ্রুত কার্জন হলের সামনে ফিরে যাই, যেখানে হাসানকে খুঁজে পাই।
আমরা এখনো নিশ্চিত নই, তবে মনে হচ্ছে আমাদের ওপর কোনো অজানা কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছিল, যার ফলে আমরা তাদের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে বাধ্য হয়েছিলাম।
রাত ১২,০১ মিনিটে শাহাবাগ থানায় জিডি করি এবং দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার আমাদের জিডিটি করতে সহযোগিতা করে এবং পরবর্তী শাহাবাগ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ স্যার আমাদের ফোন উদ্ধ্যারে সহযোগিতা করবে এমনটি জানায় |

Comments
No comments
Add a comment: