এসডিজিভিত্তিক নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন শিক্ষক-লেখক জয় দাস
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট-২০২৬-এ বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে এনেছেন তরুণ শিক্ষক ও লেখক জয় দাস।
আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন ‘কনফিডেন্স স্পার্ক’ (Confidence Spark) সম্মাননা। একই সঙ্গে সফল অংশগ্রহণের জন্য পেয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অংশগ্রহণ সনদ।৯ থেকে ১২ জুলাই কুয়ালালামপুরের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (APU)-এ আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ৩৫০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। নেতৃত্ব বিকাশ, উদ্ভাবনী চিন্তা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে তরুণদের ভূমিকা ছিল সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়।এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তরুণ নেতৃত্ব ফাতিহা আয়াত। জাতিসংঘ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেডএক্সের বক্তা হিসেবে পরিচিত ফাতিহা আয়াত শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সম্মেলনে জয় দাস নিজ দলের অন্যতম বক্তা হিসেবে ‘প্রজেক্ট পিওরস্টেপ’ উপস্থাপন করেন। তিনি শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা গড়ে তোলা, প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনা এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ), এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা) এবং এসডিজি-১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় প্রশংসিত হয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বের দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, উপস্থাপনার মান, উদ্ভাবনী ধারণা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন অধ্যাপক ফারাহ হানিফ (মালয়েশিয়া), ড. সারভিন্দার কৌর সান্ধু (ভারত), অধ্যাপক ফাতমির শেহু (আলবেনিয়া) এবং ড. নাজমুস সায়াদাত (বাংলাদেশ)।
তাঁদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্ব, গঠনমূলক অংশগ্রহণ, ইতিবাচক মনোভাব এবং অনুপ্রেরণাদায়ী উপস্থাপনার স্বীকৃতিস্বরূপ জয় দাসকে ‘কনফিডেন্স স্পার্ক’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। পাশাপাশি সম্মেলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের দক্ষতার জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অংশগ্রহণ সনদ অর্জন করেন।
সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা জয় দাস এসএসসি পরীক্ষার পর থেকেই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। শিক্ষকতা ও লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পাঠদান করে আসছেন।
জয় দাসের এই আন্তর্জাতিক অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বৈশ্বিক নেতৃত্বের অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণদের সক্ষমতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই সম্মাননা দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments
No comments
Add a comment: