ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়াতে চাননি ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করতে চাননি।
কারণ, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। শনিবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসে। বিশেষ করে জর্ডানে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। ওই হামলায় ইরানের নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়।
ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের জন্য সংরক্ষিত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এদিকে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিয়াং বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে ওয়াশিংটন সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যথায় পরিস্থিতির পরিণতি কী হতে পারে, তা তেহরান ভালোভাবেই জানে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে তা তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনবে না; বরং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

Comments
No comments
Add a comment: